,

Home » Top » উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাচ্ছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাচ্ছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী মার্চে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা ইকোসক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
তিনি বলেন, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা তিন সূচকেই শর্ত পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
গত ৪২ বছর ধরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় আছে বাংলাদেশ। নতুন বছরে এ ঘোষণা আসলে ২০১৮ সালটি দেশবাসীর কাছে স্মরণীয় থাকবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়।
বাংলাদেশের জন্য এই অর্জন অনেক মর্যাদার। কারণ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীলে উত্তরণের জন্য বিবেচ্য তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি অর্জন করতে চলেছে। এর ফলে নতুন অবয়বে সারাবিশ্বের সামনে অভ্যুদয় ঘটবে বাংলাদেশের। তবে উন্নয়নশীলে উত্তরণ ঘটার পর এ রাষ্ট্রের সামনে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হবে। যার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিডিপি) প্রতি তিন বছর অন্তর এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয় পর্যালোচনা করে। সিডিপি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা করতে গত অক্টোবরে ঢাকায় আসেন। প্রাথমিক হিসাব করে সিডিপি নিশ্চিত করেছে, তাদের ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ আগামী মার্চে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার মানদণ্ড পূরণ করবে। এরপর ২০২১ সালের পর্যালোচনায় সিডিপি বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করবে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনুমোদন দেবে জাতিসংঘ।
এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য মার্চে যে পর্যালোচনা হবে, তাতে মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ ডলার। বিশ্বব্যাংক নির্ধারিত অ্যাটলাস পদ্ধতিতে এ আয় নির্ধারণ করা হয়। জাতিসংঘের ওই কমিটির হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১২৭২ ডলার। মানব সম্পদ সূচকে স্কোর থাকতে হবে ৬৬ বা তার বেশি। বাংলাদেশের স্কোর এখন ৭২ দশমিক ৮। আর অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের স্কোর হতে হবে ২৫ বা তার কম। বাংলাদেশের স্কোর এখন ২৫।
বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জুলাই মাসে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয়ের বিবেচনায় এ শ্রেণিকরণ বিশ্বব্যাংকের। জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত- এ তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি। এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ক্ষেত্রে ‘মাথাপিছু আয়’ অন্যতম মানদণ্ড। এ ছাড়া সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নির্ধারণের জন্য অন্য দুটি মানদণ্ড নিরূপণ করা হয়।
উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সুবিধা কী? এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় মর্যাদার। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, এটি তারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আন্তর্জাতিক ফোরামে তখন বাংলাদেশকে আলাদাভাবে দেখতে হবে, এ দেশের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য বিনিয়োগের বিষয়টি নির্ভর করে পরিবেশের ওপর।

Leave a Reply