,

পাবনায় তীব্র শীতে নিহত ৬

পাবনায় প্রবল শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে ঠান্ডাজনিত অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মৃতদের বয়স ৫০ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক রোগী। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া গ্রামের ওসমান প্রামানিকের ছেলে আবু বক্কার প্রামানিক (৮৫), একই থানার বনগ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী খোরশেদা খাতুন (৫৫) ও একই এলাকার কুদরতের ছেলে মনসুর আলী (৫৫), পাবনা সদরের দ্বীপচর এলাকার লজের প্রামানিকের ছেলে লোকমান প্রামানিক (৭৫), আটঘরিয়া উপজেলার পারখিদিরপুর গ্রামের শাহাদত আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (৫০) ও সুজানগর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের হাজি আছির উদ্দিন (৬৫) শীতজনিত ও অ্যাজমা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীদের স্বজনেরা জানান, নাভিশ্বাস উঠাবস্থায় রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে এলেও চিকিৎসা শুরুর আগেই তারা মারা যান।
গত ৭২ ঘণ্টায় শীতজনিত ঠান্ডা, কাশি, অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রায় আড়াই শ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল সূত্র। এদের মধ্যে ডায়রিয়া ও অ্যাজমায় আক্রান্ত ৫১ জন।
চিকিৎসাধীন তিন দিনের শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ২৭ জন শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৪ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষ।
এদিকে কনকনে শীতে নাস্তানাবুদ শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে ঘর থেকে বের হওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও পেটের তাগিদে অনেকে কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হয়েছে।
তবে চলমান ঠান্ডা ও শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে শিশুদের ঘরের বার না হতে পরামর্শ দিচ্ছেন হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ নীতিশ চন্দ্র।
এদিকে সকাল থেকে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে জেলার অনেক স্থানে দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। হকার্স মার্কেটগুলোতে দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে গরম কাপড় কেনার জন্য। এই সুযোগে অনেক বিক্রেতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
এদিকে ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে তাপমাত্রা আরও নামতে পারে। টিপিও আব্দুল খালেক সরকার জানান, সোমবার সকাল আটটায় পাবনার ঈশ্বরদীতে ৫.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ রাতে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।

Leave a Reply