,

Home » Top » বৃহস্পতিবার নাগাদ পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনের স্পেস স্টেশন

বৃহস্পতিবার নাগাদ পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে চীনের স্পেস স্টেশন

চীনের প্রথম স্পেস স্টেশন তিয়ানগং-১ এই সপ্তাহের শেষের দিকেই ভূপাতিত হবে বলে জানিয়েছে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
২২ মার্চ, বৃহস্পতিবার অ্যারোস্পেস কর্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) থেকে ৩ এপ্রিলের (মঙ্গলবার) মাঝে পৃথিবীতে আছড়ে পড়বে তিয়ানগং-১।
সাধারণত মহাকাশ থেকে কোন বস্তু পৃথিবীতে পতিত হলে বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে তা জ্বলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তবে ৯.৪ টন ভারী এই স্পেস স্টেশন ঘণ্টায় ১৫ হাজার মাইল বেগে ভূপাতিত হলেও এর কিছু অংশ অক্ষত থাকতে পারে।
অ্যারোস্পেস কর্পের ইঞ্জিনিয়ার ড. উইলিয়াম এইলর জানান, তিয়ানগং-১ এর গঠনটা অনেকটা পিঁয়াজের মত। বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে এর বাইরের স্তরগুলো পুড়ে গেলেও ভেতরের কিছু জিনিস অক্ষত থাকতে পারে।
হলুদ
হলুদ এলাকাগুলোতে তিয়ানগং-১ ভুপতিত হবার সম্ভাবনা বেশি। ছবি: অ্যারোস্পেস কর্প
এর উদাহরণ দিয়ে এইলর বলেন, ২০০৩ সালে নাসার কলাম্বিয়া স্পেস শাটল বায়ুমণ্ডলে আবার প্রবেশের সময়ে আংশিক পুড়ে যায়। তবে তদন্ত করতে গিয়ে এই শাটলের একটি সক্রিয় কম্পিউটার পাওয়া যায়। এই কম্পিউটারে থাকা তথ্য দিয়েই পরে বোঝা যায় কী কারণে শাটলটি ভূপাতিত হয়েছিল।
তিয়ানগং-১ স্পেস স্টেশন উৎক্ষেপণ হয়েছিল ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। এতে দুজন মহাকাশচারী থাকার মতো জায়গা আছে। ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ এর সঙ্গে চীনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২০১৭ সালের মে মাস নাগাদ তা পৃথিবীর ২১৮ মাইল ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করছিল এবং দিনে ৫২৫ ফুট করে নিচে নামছিল এটি।
শুধু যে মাধ্যাকর্ষণের টানে এই স্পেস স্টেশন পৃথিবীতে এসে পড়বে তা নয়। বরং সূর্যের তৈরি সোলার স্টর্ম এবং সোলার ফ্লেয়ারের কারণেও এর গতি ত্বরান্বিত হয়েছে।
তিয়ানগং-১ এর নিজস্ব গতি, গতিপথ, উচ্চতা এবং সূর্যের বিভিন্ন কাজের ফলাফল বিবেচনা করে অ্যারোস্পেস কর্প জানায়, ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মাঝে ভূপাতিত হবে তিয়ানগং-১।
যেহেতু পৃথিবীর ৭১ শতাংশই পানি, সুতরাং তিয়ানগং-১ সমুদ্রে পতিত হবার সম্ভাবনাই বেশি। তবে ১,০০০ মাইল জুড়ে এর বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে পারে, জানান এইলর। পৃথিবীর কোন মানুষ বা ভবনে এসব টুকরো আঘাত করার সম্ভাবনা খুবই কম।

Leave a Reply