,

Home » Top » যে শহরে মৃত্যু নিষিদ্ধ

যে শহরে মৃত্যু নিষিদ্ধ

বেশ কিছু কারণে নরওয়ের প্রত্যন্ত লংইয়ারবিয়েন শহরটি অদ্ভুত। এখানে শীতকালের কয়েক মাস টানা রাত থাকে। মেরুভাল্লুকের ভয়ে ভয়ে থাকে শহরবাসী। শুধু তাই নয়, এই শহরটিতে মারা যাওয়াও নিষিদ্ধ! মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দিলে সেই মানুষটিকে দ্বীপ থেকে দূরে, নরওয়ের মূল ভুখন্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নরওয়ের মূল ভুখন্ড এবং উত্তর মেরুর মাঝামাঝি এলাকায় সভালবার্দ দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লংইয়ারবিয়েন শহরটি। শহরটি এতই ঠাণ্ডা যে এখানে মানুষ মারা গেলেও তার লাশে পচন ধরে না, কবরে অবিকৃত অবস্থাতেই থাকে সেই লাশ। এ কারণে ১৯৫০ সালে আইন করে এই শহরে মৃত্যু নিষিদ্ধ করা হয়।
এই এলাকাটি উত্তর মেরুর খুব কাছে অবস্থিত বলে লাশ কবর দেবার পরেও শরীরটি, এমনকি শরীরের রোগজীবাণুগুলো অবিকৃত থাকে। ১৯৯৮ সালে গবেষকরা কিছু লাশ এখানকার কবর থেকে তোলেন। মানুষগুলো ১৯১৮ সালের এক ভাইরাসের আক্রমণে মারা গিয়েছিল। গবেষকরা হতবাক হয়ে দেখেন, ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সেই ভাইরাস সক্রিয় আছে।
মেরুপ্রভা
শহরটি উত্তর মেরুর খুব কাছাকাছি হবার কারণে মেরুপ্রভা দেখা যায় রাত্রির আকাশে। ছবি: সংগৃহীত
১৯৫০ সালেই স্থানীয় মানুষ বুঝতে পেরেছিল লাশ মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে না। এ কারণে ওই এলাকার কবরস্থানে আর কারও কবর দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। কিছু কিছু মানুষকে দাহ করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষকেই জীবনের শেষ দিনটা দ্বীপ থেকে দূরে, নরওয়ের মূল ভুখন্ডে কাটাতে হয় এই আইনের জন্য।
‘যদি ওই শহরে অবস্থানকালে কারও আসন্ন মৃত্যুর সম্ভাবনা দেখা দেয়, তবে তাকে নরওয়ের মূল ভুখন্ডে পাঠানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করে স্থানীয়রা’। গত সপ্তাহে গণমাধ্যম দি সানকে এসব কথা বলেন নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রভাষক জ্যান ক্রিস্টিয়ান মেয়ার।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো- এই শহরে মানুষ জন্ম নেওয়ার ঘটনাও খুব কম। এখানে ছোট একটা হাসপাতাল আছে বটে। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরকে বলা হয় প্রসবের আগে নরওয়ের মূল ভুখন্ডে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে।
এই শহরটি উত্তর মেরুর এতই কাছে যে শীতকালে চারটি মাস এখানে সূর্য ওঠে না, চব্বিশ ঘণ্টাই রাত থাকে। এই দ্বীপে হাজারখানেক মেরুভালুক আছে, এদের ভয়ে থাকেন নগরবাসীরা। তবে মেরুর কাছাকাছি হবার কারণে দারুণ মেরুপ্রভা দেখা যায় রাত্রের আকাশে।

Leave a Reply