,

Home » Top » শিক্ষায় সেরা মেয়ে

শিক্ষায় সেরা মেয়ে

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ভর্তিতে ছাত্র ও ছাত্রীদের সমতা অর্জন হয়েছে অনেক আগেই। বরং এখন এই দুই স্তরেই ছাত্রীর সংখ্যা কিছু বেশি। পরীক্ষার ফলাফলেও ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে মেয়েরা। এবারের জেএসসি ও জেডিসি এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলেও সেই চিত্র ফুটে উঠেছে।

এবারের জেএসসি-জেডিসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ভাল করেছে। শুধু পাসের দিক থেকেই ভাল করেনি, জিপিএ ফাইভেও এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়েরা অন্তর্মুখী হওয়ায় তারা বাসায় বেশি থাকে। পড়াশুনায় বেশি মনোযোগী হয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি মাহবুবুর মনে করেন, শুধু জেএসসি-জেডিসি ও সমাপনীতেই নয়, মাধ্যমিক স্তরে এবং উচ্চ শিক্ষাতেও মেয়েদের হার দ্রুত বাড়ছে এবং তারা ভালো করছে। কারণ, মেয়েরা বাইরে যায় কম, লেখাপড়া করে বেশি। বাবা-মা ও শিক্ষকদের কথা বেশি শোনে। তাদের পড়াশোনায় মনযোগ বেশি থাকায় তারা ভালো করেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘মেয়েরা অনেক বেশি সিরিয়াস থাকে। যে সময়টায় ওই বয়সী কিশোর ছেলেরা বাইরে সময় কাটায়, বন্ধু-বান্ধব, আড্ডাবাজি করে, ফেইসবুকে থাকে ওই সময়ে মেয়েরা গুরুত্ব সহকারে লেখাপড়া করে।’

ছাত্রীদের ভালো ফলের পেছনে উপবৃত্তির বিষয়টিও কিছুটা প্রভাব রেখেছে বলে মনে করছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা।

এ বিষয়ে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, মেয়েদের কাছে রেখে অভিভাবকেরা যতটা যত্ন নিতে পারেন, সেটা ছেলেদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কিছুটা কম হয়। ছেলেরা বেশি বহির্মুখী হয়। পরীক্ষার ফলাফলে মেয়েদের এগিয়ে থাকার ক্ষেত্রে এটাও একটা কারণ।

এবার জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার ও জিপিএ ফাইভ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে মেয়েরা। দুই এই স্তরে সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া এক লাখ ৯১ হাজার ৬২৮ জনের মধ্যে এক লাখ ১০ হাজার ৭৩০ জনই মেয়ে। আর ছেলেদের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছে ৮০ হাজার ৮৯৮ জন। অর্থাৎ ছেলেদের চেয়ে ২৯ হাজার ৮৩৮ মেয়ে বেশি জিপিএ ভাইভ পেয়েছে।

পাসের হারেও সামান্য এগিয়ে মেয়েরা। তাদের পাশের হার ৮৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। বিপরীত দিকে ছেলেদের পাশের হার ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

প্রাথমিকের ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রাথমিক সমাপনীতে মোট ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ২১৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণ করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ১২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮১ জন ও মেয়ে ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫ জন।

মোট পাস করা ২৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৭১ জনের মধ্যে ছেলে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩০ এবং মেয়ে ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৪১।

অর্থাৎ ছাত্রদের পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও ছাত্রীদের ৯৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

প্রাথমিকে মোট জিপিএ ফাইভ পেয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে ছেলে এক লাখ ১৫ হাজার ৫৪৮ আর মেয়ে এক লাখ ৪৭ হাজার ৬১।

শুধু এবারের জেএসসি-জেডিসি ও সমাপনী পরীক্ষায় নয় সম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় পরীক্ষায়ই ছাত্রীরা পাসের হারে এগিয়ে থাকছে। একটা সময় ছিল অনেক পরিবার ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের কম গুরুত্ব দিত। এখন আর সেটা হয় না। বরং এখন অনেক বাবা-মা মেয়েদের প্রতি বেশি যত্নবান হন।

ঢাকার কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, কেন মেয়েরা ভালো ফল করছে। মেয়েরা যেহেতু সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখছে, পরিবারকে আর্থিকভাবেও সাহায্য করছে, এমনকি কোনো কোনো পরিবারে মেয়ে সন্তানটিই সব দায়িত্ব পালন করছে। ফলে মা-বাবা মেয়েদের লেখাপড়ার গুরুত্ব বুঝতে পারছেন।

বেশির ভাগ পরিবার মেয়েদের বাইরে ঘোরাফেরা, আড্ডা দেওয়া পছন্দ করে না। বাড়িতেই বেশি সময় কাটাতে হয়। ফলে তারা সেই সময় কাজে লাগায়। লেখাপড়া করে।

গবেষণা বলে, মেয়েরা স্থির, বুদ্ধিমান ও গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন। সামাজিক নানা কারণে তারা পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না। সুযোগ পেলে যোগ্যতা প্রমাণ করে দেয়।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ও এমন চিত্র দেখা গেছে। মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্য পাস করেছে আট লাখ এক হাজার ৭৭১ জন। ১০ বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মেয়েরা তুলনামূলকভাবে পড়াশোনায় বেশি আন্তরিক। এ ছাড়া এখন অভিভাবকেরা আর আগের মতো ছেলেমেয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন না। উপবৃত্তিসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।’

Leave a Reply