,

Home » Top » ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের জয়

ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের জয়


লক্ষ্যমাত্রা ২১৫। পারবে তো বাংলাদেশ! অনেক প্রশ্ন। প্রশ্নটা আসছিল কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর আগে এতো রান করেনি বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটে এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ১৯৩। কিন্তু নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে আজ শ্রীলঙ্কার দেয়া ২১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দুই বল বাকি থাকতে পাঁচ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নিলো টাইগাররা। ২১৫ রান করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। সিরিজে দুই ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের এটি প্রথম জয়। আর দুই ম্যাচ খেলে শ্রীলঙ্কার এটি প্রথম হার।
ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল নয় রান। এসময় ক্রিজে ছিলেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। বোলিংয়ে ছিলেন থিসারা পেরেরা। ওভারের প্রথম বল থেকে দুই রান নেন মুশফিকু রহিম। দ্বিতীয় বলে চার মারেন তিনি। তৃতীয় বল থেকে নেন দুই রান। চতুর্থ বলে এক রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন মুশফিকুর রহিম।
বাংলাদেশের পক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করেন মুশফিকুর রহিম। ৩৫ বল খেলে ৭২ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে তিনি পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কা হাঁকান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি। এই ফরম্যাটে আজকের ইনিংসটিই তার সেরা। এছাড়া ২৯ বল খেলে ৪৭ রান করেন তামিম ইকবাল। ১৯ বল খেলে ৪৩ রান করেন লিটন দাস। ১১ বল খেলে ২০ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে নুয়ান প্রদীপ ২টি, দুশমান্থ চামিরা ১টি ও থিসারা পেরেরা ১টি করে উইকেট নেন।
ব্যাটিংয়ে নেমে দুই টাইগার ওপেনার শুরুটা করেন দারুণ। ওপেনিং জুটিতে ৭৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। দলীয় ৭৪ রানে নুয়ান প্রদীপের বলে এলডিব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস। ১৯ বল খেলে ৪৩ রান করেন তিনি। এই রান করার পথে দুইটি চার ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকান লিটন দাস। ইনিংসের দশম ওভারে বোলারের হাতে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। ২৯ বল খেলে ৪৭ রান করেন তিনি।
এরপর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফিরে যান সৌম্য সরকার। দলীয় ১৫১ রানে বোলারের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ২২ বল খেলে ২৪ রান করেন তিনি। দলীয় ১৯৩ রানে দুশমান্থ চামিরার বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১১ বল খেলে ২০ রান করেন তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। দলের পক্ষে কুসল মেন্ডিস ৩০ বল খেলে করেন ৫৭ রান। ৪৮ বল খেলে ৭৪ রান করেন কুসল পেরেরা। ১৫ বল খেলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন উপুল থারাঙ্গা। দুই বল খেলে ৬ রান করে অপরাজিত থাকেন জীভন মেন্ডিস। বাংলাদেশের পক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২টি, মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি ও তাসকিন আহমেদ ১টি করে উইকেট নেন। দলীয় ১৯৭ রানে রান আউট হন সাব্বির রহমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ফল: পাঁচ উইকেটে জয়ী বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ২১৪/৬ (২০ ওভার)
(দানুশকা গুনাথিলাকা ২৬, কুসল মেন্ডিস ৫৭, কুসল পেরেরা ৭৪, দাসুন শানাকা ০, দিনেশ চান্দিমাল ২, উপুল থারাঙ্গা ৩২*, থিসারা পেরেরা ০, জীভন মেন্ডিস ৬*; তাসকিন আহমেদ ১/৪০, মোস্তাফিজুর রহমান ৩/৪৮, রুবেল হোসেন ০/৪৫, মেহেদী হাসান মিরাজ ০/৩১, নাজমুল ইসলাম অপু ০/২০, সৌম্য সরকার ০/১১, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২/১৫)।
বাংলাদেশ ইনিংস: ২১৫/৫ (১৯.৪ ওভার)
(তামিম ইকবাল ৪৭, লিটন দাস ৪৩, সৌম্য সরকার ২৪, মুশফিকুর রহিম ৭২*, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২০, সাব্বির রহমান ০, মেহেদী হাসান মিরাজ ০*; দুশমান্থ চামিরা ১/৪৪, আকিলা ধনঞ্জয়া ০/৩৬, নুয়ান প্রদীপ ২/৩৭, দানুশকা গুনাথিলাকা ০/২২, থিসারা পেরেরা ১/৩৬, জীভন মেন্ডিস ০/২৫, দাসুন শানাকা ০/১২)।

Leave a Reply