,

Home » Top »  গণ পরিবহন চালক-মালিক ঐক্য পরিষদ’র সাংবাদিক সম্মেলন

 গণ পরিবহন চালক-মালিক ঐক্য পরিষদ’র সাংবাদিক সম্মেলন

পরিবহন সেক্টর তথা ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রামের প্যাডেল চালিত রিক্সা, সিএনজি অটো রিক্সা, অটো টেম্পো, হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার সহ সকল গণ পরিবহন চালক-মালিকদের জন্য মৌলিক কিছু সমস্যা এবং সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য মৌলিক কিছু দাবী-দাওয়া আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরে দাবীগুলি পূরণ করে দেওয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দৃষ্টি আকর্ষন করছি। আপনাদের বস্তু নিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ লিখনি আমাদের দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে একটি অন্যন্য ভূমিকা ও সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করবে। এমন প্রত্যাশা নিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় দেশের কৃষির অবস্থা তেমন ভাল নয়। শিল্প কারখানা নেই বলেই চলে। দেশের কোটি-কোটি লোক বেকারত্ব জীবন যাপন করছে। কাজ দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের থাকলেও সরকার কাজ দিতে পারছেনা বলে আমরা বিভিন্ন ব্যাংক অথবা এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে অল্প পূঁজি দিয়ে কেহ প্যাডেল চালিত রিক্সা, সি.এন.জি অটো রিক্সা, হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার সহ গণ পরিবহন শহরে চলাচলের জন্য ক্রয় করি এবং চালানোর পেশায় নিয়োজিত হই। এখানে ও আমরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। আমরা প্যাডেল চালিত রিক্সা, সি.এন.জি. অটো রিক্সা, অটো টেম্পো, হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার সহ সকল গণপরিবহনের চালক-মালিক হয়ে মনে হয় মহা অপরাধ করেছি। প্রসাশন চোর, ডাকাত, অপরাধীদের সাথে যে ধরনের ব্যবহার করে আমাদের সাথে তাঁর চেয়েও বেশি খারাপ ব্যবহার করে এবং কথায় কথায় গায়ে হাত তুলতে পর্যন্ত দ্বিধাবোধ করে না। আমরা দেশের সৎ আয় রোজগার ও কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করি। আমরা সরকারের কোষাগারে অগ্রিম আয়কর দেই এবং সরকারের সব কাজেই অবদান রেখে যাচ্ছি। এই অবস্থায় আপনাদের মাধ্যমে সরকার বা প্রসাশনের নিকট আমাদের প্রশ্ন, আমাদের দুঃখ কষ্টের কথা কেন সরকার শুনবে না বা কেন সমস্যা সমূহ সমাধান করবে না?
আপনারা শুনলে অবাক হবেন, ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ইজি বাইক টম টম চলাচল বন্ধের জন্য দেশের সবোর্চ্চ আদালত তথা সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছে। জানি না কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় দিনের বেলায় চট্টগ্রাম মহানগরের অলিতে-গলিতে এবং রাতের বেলায় প্রধান প্রধান সড়কে এই বাহন গুলো চলাচল করছে। মনে হয় সুপ্রীম কোর্টের আদেশ প্রয়োগের কোন প্রসাশন নেই। আপনারা নিশ্চই জানেন দেশে এমনিতে বিদ্যুতের লোড শেডিং। এই অবস্থায় ব্যাটারী গুলো চার্জ দিলে আরো লোড শেডিং বেড়ে যায়। অপর দিকে ব্যাটারী চালিত রিক্সায় দৈনিক শত শত দূর্ঘটনার পর দূর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। যাত্রী সাধারণ মেডিকেলে ভর্তি হচ্ছে। কাহারো হাত নেই কাহারো পা নেই। আবার কেহবা নিহত হয়েছে। এই নিয়ে ম্যাগাজিন অনুষ্টান ইত্যাদিতে প্রতিবেদন এবং আপনাদের পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়। এরপরও প্রশাসনের টনকনরছেনা। এক কথায় বলা যায় টাকায় যখন কথা বলে সত্য তখন চুপ থাকে।
আমরা রাস্তায় গাড়ী নিয়ে বের হলে প্রশাসন কথায় কথায় গাড়ী টু (জব্দ) করছে। গাড়ীতে যাত্রী থাকা অবস্থায় চলন্ত গাড়ী থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে অহেতুক কোন অপরাদ ছাড়া গাড়ী টু (জব্দ) করছে এবং মামলা দিচ্ছে। মামলা থাকা অবস্থায় মামলা দিচ্ছে। গালি গালাজ তো আছেই। অন্য দিকে বিদেশ থেকে সরকারী আয়কর দিয়ে গাড়ী সমুহ আমদানী করে যথারীতি বিআরটিএ রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, দিয়েছে কিন্তু রোড পারমিট দেয়নি।
 তা হলে বিআরটিএ গাড়ী সমূহ রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছে ঘরে সাজিয়ে রাখা অথবা শো-রুমে সাজিয়ে রাখার জন্য? সরকারী সিদ্ধান্ত বিশেষ কোন জরুরী অবস্থায় গাড়ী রিক্রুজেশন করতে পারবে। বর্তমানে কোন কারণ ছাড়ায় কথায় কথায় গাড়ী রিক্রুজেশন করছে কখনও ২৪ঘন্টা কখনও ৪৮ঘন্টা আবার কখনও ৭২ঘন্টা রেখে দিচ্ছে। একজন চালক দিয়ে গাড়ী চালাচ্ছে। চালকে খাওয়া-দাওয়া ও  তার পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। বিআরটিএ এর আইনে আছে একজন চালক ৫ঘন্টা থেকে ৮ঘন্টা গাড়ী চালাতে পারবে। তা হলে কি আইনের লোকেরা আইন ভঙ্গ করছে? বর্তমানে আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। পেছনে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। অবিলম্বে আমাদের দাবী সমূহ না মানলে আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া অথবা ব্যাংকের ঋণ করা গাড়ী সমূহ রাস্তায় ফেলে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ খোলা নেই। অবিলম্বে আমাদের পেশকৃত ৮দফা দাবী মেনে নেওয়ার জন্য সরকার ও প্রসাশনকে আপনাদের মাধ্যমে জোর দাবী জানাচ্ছি।
আমাদের ৮দফা দাবী সমূহঃ (১) ক) চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক টমটম চলাচল বন্ধের জন্য মহামান্য  সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বে ও কোন কালো হাতের ইশারায় দিনের বেলায় নগরীতে বিভিন্ন  অলিতে গলিতে  এবং  রাতে মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে চলাচল করছে। অবিলম্বে চট্টগ্রাম  মহানগরী এলাকায় ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত ইজি বাইক টমটম সমূহ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে  হবে। খ) রিক্সা চুরি বন্ধ করার জন্য রিক্সা চোরদেরকে ধরে গ্যাং কেইচ দিতে হবে। (২) ক) সরকারকে যথাযথ শুল্ক প্রদান করে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার অটো টেম্পো সমূহ চট্টগ্রাম বি.আর.টি.এ. রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস টেক্স টোকেন দিয়েছে। কিন্ত রুট পারমিট দিচ্ছে না। যেহেতু রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছে ন্যায় সঙ্গত কারণে চলাচলের জন্য রুট পারমিট দিতে হবে। খ) রুট পারমিট না দেওয়া পর্যন্ত মামলা এবং টু (জব্দ) করা যাবে না। গ) বিশেষ কারনে হিউম্যান হলার অটো টেম্পো গণ পরিবহন সমূহ রিকুইজেশন করলে বি.আর.টি.এ আইনুযায়ী ৫ঘন্টা থেকে ৮ঘন্টার অতিরিক্ত উিউটি করানো যাবে না এবং চালকের যথাযথ পারিশ্রমিক দিতে  হবে। (৩) ক) সিএনজি  অটো রিক্সা, অটো টেম্পু হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার এর জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে পার্কিং ব্যবস্থা করতে হবে। খ) পার্কিং এর ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সিএনজি, অটোরিক্সা, অটো টেম্পো, হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার গণপরিবহনের চালকদেরকে নো-পার্কিং ও রং পার্কিং মামলা দেওয়া যাবে না। গ) যাত্রী থাকাবস্থায় চলন্ত গাড়ী থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির নামে মামলা ও টু (জব্দ) করা যাবে না। ঘ) সিএনজি অটো রিক্সা, অটো টেম্পু হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার অথ্যার্ৎ গণপরিবহনের চালকদেরকে কথায় কথায় মামলার উপর মামলা দিয়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ঙ) সিএনজি অটো রিক্সা, অটো টেম্পু হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার সহ সকল গণপরিবহনের চালকদের  সাথে খারাপ ব্যবহার ও গায়ে হাত তোলা বন্ধ করতে হবে। (৪) সহজ শর্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে চালানোর টেস্টিং নিয়ে সিএনজি অটো রিক্সা অটো টেম্পু  হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার সহ সকল গণ পরিবহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে। (৫) ক) সিএনজি অটো রিক্সা, অটো টেম্পু হিউম্যান হলার এইচ পাওয়ার সহ সকল গণপরিবহনের চালকগণ কোন অন্যায় করলে সম্পূর্ণ মামলা ই-ট্রাফিক পদ্ধতিতে (ডিজিটাল পদ্ধতিতে) দিতে হবে। খ) চট্টগ্রাম জেলা (গ্রামগাড়ী) প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সায় যাত্রী বহন করা ও নাম্বারবিহীন সিএনজি  অটো রিক্সা  চলাচল মহানগরীতে বন্ধ করতে হবে। (৬) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইস্যুকৃত লাইসেন্স ছাড়া প্যাডেল চালিত রিক্সা চলা বন্ধ করতে হবে। (৭) ক) চালক -মালিকদের জন্য সরকারী খাস জায়গায় বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। খ) চালক-মালিকদের ছেলে মেয়েদের সরকারী খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। (৮) সিএনজি, অটোরিক্সা, রিসপ্লাসমেন্টের ক্ষেত্রে গরীব মালিকদের জন্য সরকারী ভাবে সহজশর্তে লাভ বিহীন  ঋনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আপনারা দেশ ও জাতির বিবেক। সত্য প্রকাশের সৈনিক। আমরা আশা করবো, এই সংবাদ সম্মেলনের পর গরীব-নিরীহ চালক-মালিকদের দুঃখ দুর্দশার কথাও আমাদের বাঁচার দাবী ৮দফা মেনে নেওয়ার জন্য সরকার ও দেশ বাসীর নিকট আপনাদের বহুল প্রচারিত স্ব-স্ব দৈনিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল সমূহে প্রকাশ করে চালক-মালিকদের জীবন-জীবিকার পথ সুগম করার জন্য বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানাচ্ছি। সাথে সাথে আপনারা অনেক কষ্ট করে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত নিরীহ চালক-মালিকদের দুঃখ ও দুর্দশার কথা শুনার জন্য আপনাদের মূল্যবান সময় দেওয়ায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সাথে সাথে আজকের “সাংবাদিক সম্মেলন” এখানে সমাপ্তি ঘোষনা করছি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক দিলীপ সরকার, টিটু মহাজন, কবির হোসেন, নুর মোহাম্মদ, মনির হোসেন, রিয়াসাত ফারাবি খান, আব্দুস সাত্তার, ইসহাক খান মাসুম, আশীষ কর্মকার, সাইফুল ইসলাম সরকার, মিজানুর রহমান সৌরভ, এম.এইচ শাহজাহান, মোঃ আব্দুর রব কোম্পানী, মোঃ বাবুল উদ্দিন প্রমুখ।
  প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Leave a Reply