,

Home » Top » জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে : এরশাদ

জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে : এরশাদ

জাতীয় পার্টির ও সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে, অত্যাচার দূর হবে।’
শনিবার দুপুর ১২টায় সম্মিলিত জাতীয় জোট আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ এ কথা বলেন।
এরশাদ আরও বলেন, ‌‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষের চাকরিতে প্রবেশে শৃঙখলা নেই। মানুষের মনে শান্তি নেই। চারদিকে ঘুষ, খুন, গুম, হত্যা রাহাজানি চলছে। অরাজকতার শেষ নেই। এমতাবস্থায় জনগণ বর্তমান সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
মানুষের সমর্থন এখন জাতীয় পার্টি তথা সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রতি। আশা করি আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় আসব।
আমরা ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হবে। মানুষের চাকরি হবে। অনাচার বন্ধ হবে। আবারও স্বর্ণযুগ ফিরে আসবে। জনগণের মাঝে শান্তি ফিরিয়ে আনতে জাতীয় পার্টি তথা আমাদের জোট বদ্ধপরিকর।’
এরশাদের মাথা ঠিক নেই বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নেতারা প্রায়শ এমন মন্তব্য করেন। এর জবাবে এরশাদ বলেন, ‘বয়স হয়েছে এ কথা সত্য। কিন্তু মাথা নষ্ট হয়ে যায়নি। মাথা ঠিকই আছে।’
সমাবেশে পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দীন বাবলু, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সালমা ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলামসহ পার্টির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সরিয়ে দেশের ক্ষমতায় আসেন। এরশাদের ক্ষমতাগ্রহণের এই দিনটিতেই সমাবেশ করছে দলটি।
এদিকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে করণীয় কী এমন কিছু দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের অপেক্ষায় ছিল জাতীয় পার্টি তথা সম্মিলিত মহাজোটের নেতাকর্মীরা।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন বলেন, ‘আমরা আজ শুধু আমাদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য শুনতেই এসেছি। তিনি আমাদের একটা পথ দেখাবেন। জাতিকে চলমান সংকট উত্তরণের দিকনির্দেশনা দেবেন।’
জাতীয় পার্টির নেতা আবু হোসেন বাবলা বলেন, ‘আমরা কেন? সমস্ত জাতি আজ আমাদের চেয়ারম্যানের বক্তব্যের অপেক্ষায়। কারণ, মানুষ শান্তি চায়। চলমান পরিস্থিতি থেকে রেহাই চায়।’
সকাল ৮ টা থেকেই সমাবেশস্থলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। উদ্যানের প্রতিটি ফটকে পুলিশি নিরাপত্তায় প্রবেশ করতে থাকে আগতরা। সমাবেশ শুরু হওয়ার ফলে শাহবাগ মোড়, মৎসভবন, দোয়েল চত্বর এলাকায় গাড়ি চলাচলের স্বাভাবিক যাত্রা বিঘ্ন হতে দেখা যায়।
প্রস্তুতি সভায় নেতাকর্মীরা ৫ লাখ লোক সমাগম হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সমাবেশস্থলে সেরকম দৃশ্য চোখে পড়েনি।

Leave a Reply