,

Home » Top » জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা’ ২০১৮ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে সোমবার (১৯ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গণমাধ্যমের সাথে সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক বিষয়ে এ নীতিমালায় বেশকিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সচেতন নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীর ভাল বন্ধু। জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুমোদিত তথ্য দায়িত্বশীল প্রচারণা মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সুতরাং একটি বন্ধুপ্রতিম গণমাধ্যম সামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য।

গণমাধ্যম ও সামরিক সম্পর্ক অত্যান্ত সংবেদনশীল, কারণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় সক্ষমতার উপাদান এবং উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নীতিমালার মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধের বিষয়ে বলা হয়েছে, সক্রিয় বৈশিষ্ঠ্যমন্ডিত ভাষা, সংস্কৃতি ও নৃতাত্বিক বিন্যাস এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা সংবলিত একটি অনবদ্য জাতীয় মূল্যবোধ উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সংবিধানে উদ্বৃত এ মূল্যবোধ সংবলিত রাষ্ট্রের মৌলিক উদ্দেশ্য ও আদর্শিক রুপরেখা গঠন করে। যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক নীতি এবং সার্বিক জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি প্রদান করে।

নীতিমালার কয়েকটি অধ্যায়ের মধ্যে রয়েছে, মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধসমূহ, জাতীয় লক্ষ বা প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, জাতীয় স্বার্থ, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার মূলনীতিসমূহ বা মৌলিক বিষয়সমূহ।
এছাড়াও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্থ্যৎ সশস্ত্র বাহিনীর মূল সক্ষমতা কি হবে, সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধকালিন মোতায়েন কিভাবে হবে, সামরিক ও অসামরিক সম্পর্ক কি হবে, সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের সাথে কি সম্পর্ক বজায় থাকবে এ বিষয়গুলোও বিস্তারিত বলা হয়েছে এ নীতিমালায়, জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মাদ শফিউল আলম।

তিনি জানান, নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কমিটি, মন্ত্রিসভা কমিটি কিভাবে হবে তাও এখানে পরিস্কার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কমিটি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান থেকে পরিচালিত হচ্ছে সেটা এভাবেই থাকবে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি যেটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যিনি মন্ত্রী থাকবেন তার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বরাবরই সংসদ কর্তৃক গঠন করা হয় সেভাবেই এখনও থাকবে।

আধা সামরিক ও সহায়ক বাহিনী যুদ্ধকালিন সময়ে অপারেশনাল কমান্ডে থাকবেন সামরিক বাহিনীর আওতায়। যেমন বিজিবি, কোস্টগার্ড, বিএনসিসি, পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনী যারা আছেন তারা সেনাবাহিনীর অপারেশনা কমান্ডে থাকবেন।

এ নীতিমালার উপসংহারে বলা হয়েছে, রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ৭ মার্চ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকলকে প্রত্যেক ঘড়ে ঘড়ে দুর্গ্য গড়ে তোলো এ আহ্বান জানিয়ে বাঙ্গালি জাতিকে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে জনসাধারণদের নিয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply