,

Home » Top » ফটিকছড়িতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকদের মাঝে আনন্দ

ফটিকছড়িতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকদের মাঝে আনন্দ

এম জুনায়েদ ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
বাংলা বৈশাখ মাসের তীব্র গরমের শুরুতেই বোরো মৌসুমে ধানের গাছে গাছে পাকা ধান বাতাসে স্বুবাস ছড়াচ্ছে চারিদিকে। মাঠের চারিদিকে সোনালী সমারোহ। এবার ফটিকছড়িতে সেচ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ চাষাবাদের অনুকুলে থাকায় ফটিকছড়ি বিলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, যে দিকে চোখ যাই শুধু শোনালী ধানের মাঠে পাকা ধান শোভা পাচ্ছে। তার পরও গত বছরের চেয়ে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে অনেক কৃষক জানায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ফটিকছড়ি ফটিকছড়ি বিল সহ গ্রামে-গঞ্জে নতুন ধান কাটা-মাড়াইয়ের উৎসব চলছে। সর্বত্রই নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ। ধানের ফলন ও মূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুবই খুশি। কৃষাণিরা গোলায় ধান তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অধিকাংশ বাড়ির উঠান মাটির কাদার প্রলেপ দিয়ে সিদ্ধ ধান শুকানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নতুন ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,  এবার চলতি (১৭-১৮) মৌসুমে ফটিকছড়ি উপজেলায় বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল : হেক্টর প্রতি ফলন লক্ষ্যমাত্রা : উচ্চ ফলনশীল জাতের ক্ষেত্রে : ২.৮০ মেট্রিক টন (চাউল), স্থানীয় জাতের ক্ষেত্রে : ১.৬৮ মেট্রিক টন (চাউল), হেক্টর প্রতি ফলন লক্ষ্যমাত্রা : উচ্চ ফলনশীল জাতের ক্ষেত্রে : ২.৮০ মেট্রিক টন (চাউল), স্থানীয় জাতের ক্ষেত্রে : ১.৬৮ মেট্রিক টন (চাউল), উচ্চ  ফলনশীল জাতের ধান-বিআর -১০, বিআর -১১,বিআর -২২, বিআর -২২, বিআর -২২, বিআর -২৫, ব্রি ধান-৩০, ব্রি ধান-৩১, ব্রি ধান-৩২, ব্রি ধান-৩৯, ব্রি ধান-৪০, ব্রি ধান-৪১, ব্রি ধান-৪৯ (সর্বোচ আবাদ), ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-৫২, ব্রি ধান-৬২ (জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাত),  অন্যান্য (দিনাজপুরী, বেনম্বার) , চাক্কল, গিউস, বিন্নী, কালিজিরা, বালামসহ অন্যান্য জাতের ধানের চাষাবাদ হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভায়  চলতি আমন মৌসুমে মাঠ জুড়ে সোনালী সমারোহ বোরো ধানের ক্ষেত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর অনেক কৃষকরা বুকে আশা বেঁধেছে বোরো ধানের ফলন দেখে। তারা অনেকে বলছেন বোরো ধান এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। আমন ক্ষেতের যেদিকে তাকাই শুধুই মাঠ জুড়ে দেখি ধান আর ধান এযেন দেখেই বুক ভরিয়ে যায়। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চালের অধিকাংশ এলাকায় বোরো ধান কাঁটা শুরু করে দিয়েছে। কিছু মধ্যবিত্ত পরিবারের কৃষকরা আগাম জাতের ধান লাগিয়েছে। সে গুলো আবার অধিকাংশ কৃষক সেই আগাম জাতের হাইব্রীড ধান ঘরে তুলছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের  আমান উল্লাহ. সাদেক আলী,করিম উদ্দিন সহ বেশ কয়েক জন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানায়, আগাম জাতের হাইব্রীড ধান আমাদের সকলের কাজে লাগে। খাওয়ার ধান কম পড়লে তা পূরণ করে। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে গৃহপালিত পশু গরুর  খাদ্য হিসাবে খর। বোরোর ভরা মৌসুমে গরু খাদ্য অনেক পরিবারের মধ্যে সংকট হয়ে থাকে। তাই ধানের খর বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বিক্রি করে বলে কৃষকরা জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেব নাথ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সেচ সুবিধার কারনে আশানুরুপভাবে ভাল ফলন হয়েছে। অন্য বারের চেয়ে এবারে বোরো ধানের দাম ভালই পাবে। বিভিন্ন প্রকল্প হতে ৪২ জন কৃষককে উপজেলা কৃষি অফিস হতে বিনা মূল্যে সার ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় ও কৃষি বিভাগের সার্বিক নজরদারি ও পরামর্শের কারণে রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ অত্যন্ত কম ছিল তবে কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবার কৃষকগণ লাভবান হবে আশা করছি।

Leave a Reply