,

Home » Top » ফটিকছড়িতে মঈন উদ্দিন হত্যাকান্ড ৯ দিন পর রহস্য উদঘাটন, প্রেমিকা কলেজ ছাত্রী রনি গ্রেফতার

ফটিকছড়িতে মঈন উদ্দিন হত্যাকান্ড ৯ দিন পর রহস্য উদঘাটন, প্রেমিকা কলেজ ছাত্রী রনি গ্রেফতার


ফটিকছড়ি পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিন রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে মহি উদ্দিন (৩০) নামে এক পাইপ ফিটার মিস্ত্রীকে হত্যার অন্যতম প্রধান আসামী ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ২য় বর্ষের ছাত্রী হামিদা আকতার রনি(১৮)কে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ গতকাল বুধবার গ্রেফতার করেছে। সে সাথে গ্রেফতারকৃত রনির বাবা ও ভাই সহ রনির আরেক প্রেমিক ইমনকে আটক করেছে। তাছাড়া এঘটনার সাথে জড়িত দুলাল উদ্দিন সুজন(২২) ও রবিউল আলম(৩০)কে গত ১৪ জানুয়ারী রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনা স্থলে পুলিশি অভিযান অব্যাহত ছিল ও পুকুর সেচের কাজ চলছিল ।
থানা সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের তুফান আলী পল্লান বাড়ীর জনৈক ইউনুছের কিশোরী হামিদা আকতার রনি বর্তমানে ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের (এইচ এস সি পরীক্ষার্থী) সাথে তাদের পাকা ঘরের কাজ করার সুবাদে একই এলাকার জনৈক আজিজুল হকের ছেলে মঈন উদ্দিন (৩০) সাথে এক বছর যাবৎ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্কের পর তাদের মধ্যে ফোনে ও মোবাইলে প্রায় সময় যোগাযোগ চলে আসছে। গত ৯ জানুয়ারী সকালে রনির বাবা ইউনুছ, মা মনোয়ারা বেগম ও ভাই আরফাজ একই সাথে রনির নানার বাড়ী গেলে সে সুযোগে রনি মোবাইল ফোনে ৭ বার প্রেমিক মঈনের সাথে কথা বলে তাদের ঘরে আসতে বললে চলে আসে। ঘরে কেহ না থাকার কারনে মঈন তার প্রেমিকা হামিদা আকতার রনির সাথে দৈহিক মিলনে বাধ্য কারা চেষ্টা করলে ছোরা দিয়ে মঈনের পেটে আঘাত করলে সে মারা যায়। ঘটনার দিন বিকালে রনির বাবা, মা ও ভাই রনির নানার বাড়ী হতে আসলে ঘটনা অবগত হয়। ঘটনার দিন রাতে রনির ঘরের সামনে প্রায় ১ শত গজ দূরে পুকুরে মঈনের লাশ ফেলে দেয়া হয় বলে থানা পুলিশের নিকট স্বীকার করে।
থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, হামিদা আকতার রনি যে মোবাইল সিম ব্যবহার করে তা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকান্ডের তথ্য বের করা হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারী মঈন উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের পর এ সংক্রান্তে ভগ্নিপতি সাইফু উদ্দিন চৌধুরী বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে ওই এলাকা হতে দুলাল উদ্দিন সুজন (২২) ও রবিউল আলম (৩০) কে গত ১৪ জানুয়ারী গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার হামিদার বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়। সে সাথে পুকুরে ও সেচ দেয়া চলছে আরো আলামত উদ্ধারের জন্য।
এ ঘটনার মামলার তদন্তকারী অফিসার ওসি (তদন্ত) বিজন কুমার বড়–য়া বলেন, এ হত্যাকান্ডের সহিত যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হবে। কাউকে হয়রানী করা হবে না। বর্তমানে রনির বাবা ইউনুছ ও ভাই মাদ্রাসায় পড়–য়া আরফাজ ও রনির আরেক প্রেমিক ইমন আটক আছে। রনির আরো ১ ভাই প্রবাসে ও বোনের বিয়ে হয়েছে। সে ২০১৪ সালে এস এস সি পাশ করে বর্তমানে এইচ এস সি পরীক্ষার্থী।
এদিকে প্রেমিকা হামিদা আকতার রনির গ্রেফতারের ঘটনা ফটিকছড়িতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য গত ৯ জানুয়ারী মঈন উদ্দিন সকালে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি; পরদিন ১০ জানুয়ারী সকালে তার বাড়ীর পাশে জনৈক শুক্কুরের পুকুরে ভাসমান মরদেহ খেতে পেয়ে স্থানীয়রা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ পুকুর হতে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে। লাশ উদ্ধারের সময় পেটের নাড়ি-ভূরি বের অবস্থায় ছিল। তবে যেখানে লাশ পাওয়া যায় তার আশ-পাশে কোথাও রক্তের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তখন ধারনা করা হয়েছিল অন্য কোথাও মহি উদ্দিনকে হত্যা করে মরদেহ উক্ত পুকুরের পানিতে ফেলে যায় বলে ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ যে ধারনা করেছিল তা সত্য হল। অবশেষে মঈন উদ্দিনকে যে ঘরে হত্যা করা হয়েছে সে ঘরের সন্ধান ও প্রকৃত খুনিকে তার বের হল।

Leave a Reply