,

Home » Top » বাবরের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা : আওয়ামী রাজনীতিকে অস্ত্রের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে চিহ্নিত মহল

বাবরের উপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তারা : আওয়ামী রাজনীতিকে অস্ত্রের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে চিহ্নিত মহল

প্রতিবাদী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নগরীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সাবেক ছাত্রলীগ ও নগর ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্থরের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিকে অস্ত্রের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামী অঙ্গসংঠনের ত্যাগী ও জামাত শিবির বিদ্বেষী কট্টোরপন্থী দলীয় নেতাদের টার্গেট করে হত্যা করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে উক্ত মহলটি। এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর চিহ্নিত এই মহলটি আরো বেপোরোয়া হয়ে পড়েছে। নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবেই কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের বাসা ও গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়া হয়েছে বলে দাবী করেছে নগরীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আজ বিকেল ৪ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজীব দত্ত রিংকু’র সভাপতিত্বে এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শিবু প্রসাদ চৌধুরী’র সঞ্চালনায় উক্ত প্রতিবাদী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর, সাবেক ছাত্রনেতা সুরজিত বড়–য়া লাভু, গাজী জাফর উল্লাহ, রিটু দাশ বাবলু, হেলাল উদ্দিন, আসহাব রসুল জাহেদ, সঞ্জয় ভৌমিক কংকন, এম. কুতুব উদ্দিন, মেজবাহ উদ্দিন মোর্শেদ, মোসলেহ উদ্দিন শিবলী, মনোয়ারুল আলম চৌধুরী নোবেল, মোঃ জাহেদ, আমিরুল ইসলাম সানু, রফিকুল আলম বাপ্পী, গোলাম দস্তগীর, নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা পাভেল ইসলাম, রাজেশ বড়–য়া, নগর ছাত্ররীগের সহ-সভাপতি একরামুল হক রাসেল, সৌমেন বড়–য়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু, উপ সম্পাদক কবির আহমেদ, লিটন চৌধুরী রিংকু, সহ-সম্পাদক কায়সার মাহমুদ রাজু, সদস্য কামরুল হুদা পাভেল, বিকাশ দাশ, রেজাউল করিম লিটন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম, মনির ইসলাম, মোক্তার হোসেন রাজু, আকলিমা আক্তার, মহসীন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন পলাশ, রূপম সরকার প্রমুখ।
মিনহাজুল আবেদীন, মাইনুদ্দিন সোহেল।
এসময় বক্তারা বলেন, মূলত চট্টগ্রামের আওয়ামী আদর্শিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতাকর্মীদের মূল স্রোতকে নেতৃত্বশূন্য করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের এলাকায় এলাকায় সন্ত্রাসবাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। বিএনপি জামাত শিবিরের নেতাকর্মীদের অনুপ্রবেশ করিয়ে ব্যক্তিবিশেষের লাঠিয়াল বাহিনী বানানো হয়েছে। পলাতক সন্ত্রাসীরা বিদেশে থেকে দলে দলে চট্টগ্রামে ঢুকে পড়ছে। জেলের ভেতর আর কোন বিএনপি শিবিরের সন্ত্রাসী ও দূর্ধর্ষ ক্যাডার অবশিষ্ট নেই জানিয়ে বক্তারা বলেন, সবাই আজ আওয়ামী লীগের বিশেষ নেতার অনুসারী হিসাবে চট্টগ্রামের অলি-গলিতি মাস্তানী রাহাজানীর কাজে লিপ্ত হয়েছে। মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বসানোর মাধ্যমে এই সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ আয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানায় থানায় নির্দিষ্ট সন্ত্রাসীদের আয়ের একটি অংশ মাসোহারা হিসাবে গ্রহণ করছে স্থানীয় থানার পুলিশ। আর পুরো কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক গোষ্ঠির সরাসরি হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে।
বক্তারা বলেন, এই সন্ত্রাসীরা কখনো শিক্ষকের মাথায় পিস্তল ধরে হুমকি দিচ্ছে কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে। আবার সে অপকর্মগুলোর সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক পেটানোর ঘটনাও আমরা দেখতে পেয়েছি। বিগত দুই বছরে চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সোহেল, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ও নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসসহ অন্তত অর্ধডজন দলীয় নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। স্কুল ছাত্র আদনানের মতো নিরীহ শিশু পর্যন্ত বাদ যায়নি এই সন্ত্রাসী মহলের হাত থেকে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, কোন ঘটনাতেই আজ পর্যন্ত খুনের নেপথ্যের মানুষগুলোকে আটক করা হয়নি। অস্ত্রের ব্যবহার হলেও পুলিশ কোন ঘটনাতেই সেই অস্ত্র ও অস্ত্রের মালিকদের গ্রেফতার করেনি। অথচ গনমাধ্যমে বারবার এসকল ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও অস্ত্রের মজুদদারদের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু সবগুলো ঘটনাতেই গডফাদাররা অধরা থেকে গেছে বিশেষ ক্ষমতাধরদের পুঁজি করে। পুলিশের স্বদিচ্ছার অভাব এবং ক্ষমতাধর জনৈক আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় পরিচালিত এই ক্যাডার ভিত্তিক অপরাজনীতির কারণে জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষের প্রাপ্ত নাগরিক সুবিধাকে বঞ্চিত করে আজ জনদুর্ভোগে পরিনত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ব্যানারে মূলত জামায়াত মতাদর্শে বিশ্বাসী নেতার মনের বাসনা পূর্ণ করতেই মূলত এই ঘটনাগুলো ঘটছে বলে আমরা মনে করি। অপরদিকে নিজ দলের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক সহিংসতা ছডিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে এই সব ঘটনায় দায়ীদের আইনের আওতায় আনা সহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মানববন্ধন থেকে। মানববন্ধন থেকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের বাসা ও গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত ও নির্দেশদাতার মুখোশ উন্মোচনের জন্য নগর পুলিশ কমিশনারকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। অন্যতায় চট্টগ্রামের আপামর ছাত্র জনতাকে সাথে নিয়ে আত্মবিনাশী এই নরঘাতকদের সর্বাত্তক জবাব দেওয়ার হুমকিও প্রদান করেছে মানববন্ধনে উপস্থিত নেতা কর্মীরা।
উক্ত মানববন্ধনে একাত্মতা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টি (জে পি) আহ্বায়ক আজাদ দোভাষ, কামাল উদ্দিন, ছোটন বড়–য়া, হুমায়ুন কবির রানা, প্রশান্ত চৌধুরী যীশু, নাছির উদ্দিন ফাহিম, সঞ্জিব বিশ্বাস সাজু, মোঃ মোরশেদ আলম, মো: ইফতিখার ইফতু, এম.কে আলম বাসেদ, দেলোয়ার হোসেন, আকতার হোসেন, হাবিবুর রহমান হাবিব, হোসেন আহমদ রুবেল, মকবুল আহমেদ, মোশরাফুল হক পাভেল, শাহ্ মোমিন চৌধুরী, রাফসানুল হক, নাজমুল ইসলাম, মাসুম চৌধুরী, আমিরুল করিম, ফাহিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, সৈকত দাশ, সুজন, শুলক বড়–য়া প্রমুখ।

Leave a Reply