সরকারের শেষ বছরে এসে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী যোগ ছাড়াও রদবদল করা হয়েছে কয়েকজনের দফতর।

৩ জানুয়ারি বুধবার সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম দফতর বণ্টন ও বদলের তথ্য তুলে ধরেন।

দফতর বদল হওয়াদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী করা হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী করা হয়েছে এবং এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে করা হয়েছে পানি সম্পদমন্ত্রী ।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে তারানা হালিমকে সরিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুনদের মধ্যে প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী, একেএম শাহজাহান কামাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, কাজী কেরামত আলী কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী হয়েছেন। আগে তিনি এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ১৯৮৪ সালে তিনি ডুমুরিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ ও ২০০৩ সালে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এখনও এ পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে একাধারে ছয় মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০০ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ইউসুফের মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ডুমুরিয়া-ফুলতলা আসন থেকে সপ্তম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে নবম ও দশম জাতীয় সংসদে একই আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন।

শাহজাহান কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এ সময় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

শাহজাহান কামাল ১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলায় গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তী তিনি নবগঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৫ সালে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

২০১১ সালে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।

কম্পিউটার ব্যবসায় নামার পর মোস্তাফা জব্বার প্রযুক্তিবিদ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কম্পিউটারের ওপর বেশ কিছু বই লিখেছেন। বাংলা ভাষাকে কম্পিউটারে আরও সহজলভ্য এবং জনপ্রিয় করতে উদ্যোগ নেন তিনি। সে ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রকাশ হয় বিজয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যার। পরে ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশ করেন উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সংস্করণ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে নির্বাচন করে সূর্যসেন হলের নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর পর একই বছর তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন।

কাজী কেরামত আলী ১৯৯০ থেকে রাজবাড়ী জেলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯২ সালে রাজবাড়ী-১ থেকে ৫ম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাজী কেরামত আলী। ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদে এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ ও ২০১৪ সালে ১০ম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।