,

Home » Top » স্থগিত ডিএনসিসি নির্বাচন!

স্থগিত ডিএনসিসি নির্বাচন!

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোট না হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পেশাজীবীদের অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এমন শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। অথচ খোদ বিএনপিরই এক নেতার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
বিএনপির ওই নেতার নেতা আতাউর রহমান। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই আতাউরের পরিচয় জানেন না। বিষয়টি জানার পর অনেকেই অবাক হয়েছেন। আতাউর রহমানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আহসানুল্লাহ হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আতাউর রহমান আমাদের কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এ বিষয়ে জানতে ডিএনসিসিতে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন।
এদিকে ডিএনসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে ভেবে সরকারের ইঙ্গিতে তাদের লোক দিয়ে রিট করিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ডিএনসিসিতে মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু এক মাস আগে ১৭ জানুয়ারি বুধবার উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ডিএনসিসির সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচনের সার্কুলারের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। সকালে পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ডিএনসিসির মেয়র পদে ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি এটিকে স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করা হয় ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার। এর একটি করেছিলেন বিএনপি নেতা আতাউর।
রিটে বলা হয়েছিল, ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়া আটটি ইউনিয়ন ভেঙে গত বছরের জুলাইয়ে ১৮টি ওয়ার্ড করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এতে ডিএনসিসির ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪টি। নতুন যুক্ত হওয়া এসব ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেনি ইসি। কিন্তু সেটি না করেই মেয়র পদে উপনির্বাচন ও এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি।
এ বিষয়ে রিটকারী আতাউর রহমানের আইনজীবী আহসান হাবিব ভূঁইয়া মঙ্গলবার প্রিয়.কমকে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনী তফসিল স্থগিত চেয়ে আমরা আদালতে রিট আবেদন করেছি। আমার মক্কেল (আতাউর রহমান) এখনও ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ ইউনিয়নের ভোটারদেরকে সিটি করপোরেশেনের ভোটার হিসেবে এখনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
‘ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে দাখিল করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভোটার তালিকাই প্রকাশ করেনি ইসি। এখন যিনি প্রার্থী হবেন, তিনি কিন্তু জানেন না তিনি ভোটার কি না। তা ছাড়া মনোনয়নপত্রে ৩০০ ভোটারের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ভোটার তালিকা প্রকাশ না হলে সেটা কীভাবে সম্ভব।

Leave a Reply