,

Home » Top » স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আসতে দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় আসতে দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও খুনিদের ক্ষমতায় আসার পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৭ মার্চ, বুধবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে জনসভাটির আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। এতে যোগ দিতে রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
সমবেত নেতাকর্মীদের সামনে দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এতিমের টাকা লুটপাট করে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার পথ বিঘ্ন করে, যারা জঙ্গিবাদকে মদদ দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাদেরকে কেউ ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিবেন না। দেশকে যারা নরকে পরিণত করতে চেয়েছিল, তা থেকে এসে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে ছাত্র, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-সকলে মিলে জঙ্গিমুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারো কাছে মাথা নত করব না। বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলব। এ শিক্ষাই আমাদের জাতির পিতা দিয়ে গেছেন। খুব শিঘ্রই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমরা শুধু ১৬ কোটি মানুষকে খাবার দেই না। দেশের বাইরের অসহায় মানুষে মুখেও খাবার তুলে দেই।’
‘একাত্তরের যুদ্ধ ছিল জনযুদ্ধ। এই যুদ্ধে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুবা অংশ নিয়েছিল। আরেক শ্রেণির মানুষ হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছে। তারা নির্বিচারে এ দেশের মানুষকে হত্যা করেছে।’
দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে তার মেয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর হাতে সময় পেয়েছিলেন মাত্র সাড়ে ৩ বছর। এই সময়ে একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করা, মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সহায়তা করা, শহিদ পরিবারকে সহায়তা করা, বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা, দেশের মানুষের জন্য সবুজ বিপ্লবের ডাক দেওয়া। কিন্তু এক পর্যায়ে আসে সেই অমানবিক, ঘৃণ্যতম দিন। তারা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। এরপর কী হলো? যারা ক্ষমতায় এলো, তারা জাতির জনক যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছিলেন; তা বন্ধ করা হয়। স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিতে আনা হয়, জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়; ৭ মার্চের ভাষণ ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে স্বাধীনতাবিরোধীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়। যারা স্বাধীনতাবিরোধীদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেন, তাদের কাছ থেকে কী আশা করা যায়?’
‘একটা মানুষকে যখন হত্যা করা হয়, তখন তার প্রিয়জনরা বিচার চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে আমার বিচার চাইবার কোনো অধিকার ছিল না। কারণ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ করে বলা হয়েছে, বিচার করা হবে না, চাওয়া যাবে না। এরপর অনেক সংগ্রাম, অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এর মধ্যে যে কত নেতাকে প্রাণ হারাতে হলো, তা আমি জানি। কারণ স্বজন হারানোর ব্যথা আমার চেয়ে কে বেশি জানে?’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে স্বরচিত ‘স্বাধীনতা শব্দটি কী করে আমাদের হলো’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন নির্মলেন্দু গুণ।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে কবিতাটি রচিত হয়েছিল। এটি মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যবইয়ে স্থান করে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ছাড়া জনসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরী, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফারুক খান, সাহারা খাতুন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, উত্তরের সভাপতি রহমত উল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কায়সার, শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ঢাকা-১০-এর সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।
এর আগে বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে ৭ মার্চের কর্মসূচি শুরু করে আওয়ামী লীগ।

Leave a Reply