,

Home » Top » ১৫ পরিবারের খালের গর্ভে বিলিন॥ বসতভিটে হারিয়ে মানবতার জীবন যাপন, পটিয়ার ধলঘাট করনখাইনে খালের ভাঙ্গনে মুখে ৫০ পরিবার

১৫ পরিবারের খালের গর্ভে বিলিন॥ বসতভিটে হারিয়ে মানবতার জীবন যাপন, পটিয়ার ধলঘাট করনখাইনে খালের ভাঙ্গনে মুখে ৫০ পরিবার

সনজয় সেন.পটিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি. পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের করনখাইন এলাকায় খালের গর্ভে বিলিন হওয়া পরিবারের ষাটোর্ধ্ব বয়সের চুন্নু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘অ-বাজি আরার বাব দাদার ভিড়া খালর ভাঙ্গনোউত্তুন রক্ষা অইয়্যে ইয়্যান চায় যাইত পারিলিই আ্যও মনন্যান শান্তি পাইব্যু। শেষ পর্যন্ত মনে অ-র খালর ভাঙ্গনত্তুন ভিড়াঘান রক্ষা গরিত প্যাইত্তম ন’’। তোয়ারা চেয়ারম্যান মেম্বার অ-লর হইয়্যু এ সমস্যাঘ্যান সমাধান গ্যরিবেল্ল্যাই’’। এক রাত্তিয়্যে ৭০-৮০ য়্যু কেলা গাছসহ বড় অংশ খাল্যত্ত বিলিন হয়্যগিয়েগ্যে। ’’
উপজেলার করনখাইন এলাকায় দিন যতই গড়াচ্ছে এক একটি পরিবারের বসতভিটে খালের ভয়াল ¯্রােতে খালের গর্ভে বিলীন হতে চলছে। খালের পাশে এক একটি বসত ভিটে জুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাঁটল। খালের পাড়ের এ ফাঁটলগুলো বেলা শেষে জোয়ার ভাটার ¯্রােতে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। এ চিত্র কর্ণফুলী নদীর শাখা বোয়ালখালী-চাঁনখালী খালের দক্ষিণ পাড়ের পটিয়া উপজেলার করনখাইন এলাকার। এতে পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের করনখাইন গ্রামের প্রায় ৫০ পরিবারের লোকজন নির্ঘুম রাত খাটাচ্ছে। ভয়ে ভয়ে দিন কাটাচ্ছে কখন তাদের বসত ভিটে টি খালের গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।
জোয়ার-ভাটার বোয়ালখালী খালের পানির ¯্রােতে তাদের এলাকার একে একে বসত ঘর ভেঙ্গে পড়ছে।
গত ৭ বছরে অনেক বাড়ি-ঘর ক্রমান্বয়ে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বহু পরিবার বর্তমানে ভাড়া বাসা নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনন্ত ১৫ টি পরিবার বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ওই এলাকার আরো অর্ধ শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভাঙ্গন আতংকে রাত যাপন করছেন। সর্বশেষ পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের উপ-পাঠাগার সম্পাদক মো: মহিউদ্দিনের পৈত্রিক ভিটের অর্ধেক জায়গা ও বসত ঘরের বেশির ভাগ অংশ খালে বিলীন হয়ে গেছে। পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী তাদের দুর্দশার চিত্র পরিদর্শন করে গেছেন। আগামী বর্ষা মওসুমের আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা সরকারি কোন বরাদ্দ দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে করনখাইন গ্রাম পুরোটাই বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর শাখা খাল বোয়ালখালী খালটি পটিয়া উপজেলার চানখালী খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। খালের উত্তর পাড়ে বোয়ালখালী উপজেলার খিতাপচর ও দক্ষিণ পাড়ে রয়েছে পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের করনখাইন গ্রাম। খালের পাড়ে বর্তমানে করনখাইন গ্রামে অর্ধ শতাধিক বসত ঘর রয়েছে। তার মধ্যে গত ৭ বছরে মো. নুরুচ্ছফা, মো. নুরুন্নবী, কবির আহমদ, নূর আহমদ, আমির হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর, বদিউল আলম, তৌহিদুল আলম, মনির হোসেন, মো. ইদ্রিস, সুলতান আহমদ, নূর হোসেন, মো. জসিম, মো. জাকির, মো. আলী হোসেন, মো. শফি ও মো. দিদারুল আলমের বসতঘর খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও ভাঙ্গন রোধ করতে কোন ব্যবস্থা নেননি। বর্তমানে তাদের গ্রামের অর্ধ শতাধিক পরিবারের লোকজন নির্মূম রাত খাটাচ্ছেন। খাল পাড় এলাকার দিন মজুর বদিউল আলমের পরিবার খুবই ঝুঁকির মধ্যে বর্তমানে বসবাস করছে। যে কোন মুহুর্তে তাদের বসতঘর খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দিন মজুর বদিউল আলম, তার স্ত্রী ও ৩ কন্যা সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ওই পরিবারটি পৈত্রিক ভিটে মাটি হারালে তাদেরকে ভাড়া বাসায় যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।
করনখাইন গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউছুপ, মো. কামাল ও মো. আব্বাস জানিয়েছেন, গত ৭ বছর ধরে তাদের এলাকায় ভাঙ্গন রোধে সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ লোকমান জানিয়েছেন, বোয়ালখালী খালের দক্ষিণ পাড় ক্রমান্বয়ে ভাঙ্গনের বিষয়টি পটিয়ার সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে। কিন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ভাঙ্গনের বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে গ্রামবাসী জানিয়েছেন। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধলঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রণবীর ঘোষ টুটুন জানান, খালের ভাঙ্গনে অনেক পরিবারের বসতভিটে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় সাংসদের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এমপি মহোদয় ওখানে রাবার ড্যাম দ্বারা ভাঙ্গন প্রতিরোধে ৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প দেয়ার কথা জানিয়েছেন।

Leave a Reply